বিছনাকান্দি স্বপ্নের পানির বিছানা

Bisnakandi-clean-water-view

বিছনাকান্দি (Bisnakandi) পর্যটন স্থানটি প্রাচীন জৈন্তা রাজ্যের অন্তর্গত । বর্তমান প্রশাসনিক উপজেলা গােয়াইনঘাট । বিছনাকান্দি (Bisnakandi) সিলেট জেলার গোয়াইন ঘাট উপজেলার রুস্তম পুর ইউনিয়নের অধীনে । সিলেট শহরের জিরাে পয়েন্ট থেকে আম্বরখানা পয়েন্ট হয়ে আনুমানিক ত্রিশ কিলােমিটার গাড়ী ভাড়া করে যেতে হয়।

তারপর নৌকায় প্রায় তিন কিলােমিটার পর্যন্ত গেলেই পেয়ে যাবেন আপনার স্বপ্নের পানির বিছানা। পানির বিছানা এ জন্যে বললাম যে, বিছানা কান্দি পিকনিকের জন্য সম্পূর্ণ আলাদাভাবে উপভােগ্য। সেখানে হাঁটু পানি থেকে স্থান ভেদে কোমর পর্যন্ত পানি।

ছােট এবং বড় সাইজের মিলে লক্ষ লক্ষ পাথর রয়েছে পানির নীচে এবং উপরে। যেটি পানির উপরে ভাসানাে সেটিতে মাথা রেখে ভ্রমণ পাগল মানুষগুলি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেয়। সময় ক্ষেপনের যন্ত্রণা বুঝতেই পারে মনে হয় সময়ই সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে।


বিছনাকান্দি (Bisnakandi) এর আকর্ষনঃ

Bisnakandi-hill-view

বিছনাকান্দি (Bisnakandi) এর মূল আকর্ষন স্বচ্ছ পানির ধারা সাদা পাথরের শ্যাওলা কে কোমর দোলাতে দোলাতে সামনের দিকে ঠেলে দেয়া । সাথে মেঘালয়ের কালো মেঘ উড়িয়ে চলা দিক বিদিক । প্রকৃতির এ লীলা যেন রুটিন বেধে নিয়ম পালন করছে । পানিতে নামার আগে অনেক বড় আয়তনের সাদা পাথর বিছানা অতিক্রম করতে হয় । জাফলং যখন ধীরে ধীরে তার সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে পাথর খ্যাকুদের জন্য ঠিক তখন বিছানা কান্দি তার আপন যৌবন রুপ ধরে রেখেছে । খালি পায়ে সাদা পাথরের গরম তেজ অনুভব করতে অনেক ভাল লাগে ।


শ্যাওলা ধরা পানির নিচের পিচ্চিল পাথরে যেন দাড়ানোর অবকাশ নাই । পানির স্রোত আর পিচ্ছিল পাথর শরীরের ভারসাম্য রাখতে দেয়না । পাশের বন্ধুর গায়ে ধরে না দাড়ালে স্লিপার চড়ার মতো আপনাকে যেতে হবে অনেক দূর । যেতে যেতে বড় কোন পাথরে ধরে আবার দাঁড়ানো । অবিশ্বাস্য অনুধাবন, অসাধারন ফিলিংস ।


ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের ঝর্নাধারার প্রবল পানির স্রোতই বিছনাকান্দি (Bisnakandi) এর আসল প্রাণ । বৃষ্টির মৌসুমে ঝর্নার তীব্রতা বিছনাকান্দি (Bisnakandi) এর স্রোতকে আরও বেগবান করে দেয় । শুকনো মৌসুমে মেঘালয় ঝর্না ধারা বন্ধ হয়ে যায় তাই বিছানা কান্দি তার আসল রুপ হারাতে থাকে । মেঘ, পাহাড়, পাথর, আর পাহাড়ি ঝর্না এ এক অজানা মোহ যেন বিছানা কান্দি জুড়ে ।


পাথরকে বালিশ মনে করে পাথর ও পানির বিছানায় মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকে। ইহা বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী এবং আরামদায়ক পিকনিক স্পট।


বিছনাকান্দি (Bisnakandi) ভ্রমনে আমার অভিজ্ঞতা

Bisnakandi-River-view

২০১৫ সালে আমরা কয়েকজন সিলেট থেকে পিকনিকে গিয়েছিলাম। দেখা হল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সাথে। তারা জানালেন ছাত্র-শিক্ষক মিলে তারা একশত জন এসেছেন। পিকনিকের আনন্দ তারা নিবিড়ভাবে উপভােগ করছেন। আমি বলেছিলাম ভাই আপনাদের চট্টগ্রামে কত সুন্দর সুন্দর পর্যটন এলাকা রয়েছে-এত কষ্ট করে এখানে আসলেন কেন? প্রতি উত্তরে তারা জানালেন-এ ধরনের পিকনিক স্পট, তারা বাংলাদেশের কোথাও দেখননি।

পানির মধ্যে হাঁটছেন তারা কিন্তু কোন কাদা পায়ে লাগছে না, পানি এত স্বচ্ছ যে নীচের সকল পাথর ও মাছ দেখা যায় এবং তারা জানালেন ডুব দিয়ে দেখেন পাথরগুলােকে অনেক সাদা সাদা ও বড় দেখা যায়।

আমি ডুব দিয়ে তা পরীক্ষা করে সত্যতাও পেলাম। তারা বললেন যে ভাই এ পিকনিক স্পট মহান আল্লাহর গায়েবী দান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীও স্যারেরা এত বেশী আমােদ ফুর্তি করেছিলেন যে, তা লিখার ভাষা বা লিখিয়ে বুঝানাের শব্দ মিলানাে যাচ্ছে।

Bisnakandi কিভাবে যাবেনঃ

বিছনাকান্দি (Bisnakandi) যেতে হলে আপনাকে সিলেট শহর থেকে দুটি রাস্তার একটি অনুসরন করতে হবে । প্রথম রাস্তাটি হলো সিলেট শহরের আম্বরখানা পয়েন্ট হতে সি,এন,জি অথবা প্রাইভেট কার ধরে ৩৫ কিলোমিটার অতিক্রম করলে বিছনাকান্দি । ২য় রাস্তাটি হলো সিলেট-তামাবিল হাইওয়ে হয়ে সারীঘাট দক্ষিন পারের বাম দিকের গোয়াইন ঘাট রাস্তা দিয়ে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে হবে । নিচে ম্যাপ দেয়া হলো তাই সঠিক রাস্তা ও দুরত্ব অনুধাবন করতে পারবেন।


Summary

আমি বিশ্বাস করি এ পর্যটন এলাকার প্রতি সরকারের সুনজর এলে একে আরাে উপভােগ্য করে দেশে প্রচুর রাজস্ব আয় করা সম্ভব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মত আমিও মনে করি ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য বিছনাকান্দি

“I believe that the government’s approach to this tourism sector can bring a lot of revenue to the country by making it a viable destination. Like students at Chittagong University, I think the trip is a big one for the thirsty people.”